এ এস এইচ কে সাদেক / A S H K Sadek (1934-2007)

প্রিয় নেতার প্রিয় কবিতার শেষ উচ্চারণ
‘ জীবন আরম্ভ হয়, সেই সংগে মৃত্যু ও অনুসরণ করে
জীবনটা নিয়ন্ত্রিতভাবে আপন গতিতে চলতে থাকে,
এই পৃথিবীতে কেউ স্ব-ইচ্ছায় আগমন করে না এবং
এই পৃথিবী থেকে স্ব-ইচ্ছায় কেউ নির্গমন করে না।
( কবিতার এই পংক্তিগুলো ঢাকা থেকে কেশবপুরে শেষ করার মূর্হূতে প্রিয় সহধর্মিনীকে শুনিয়ে ছিলেন তিনি)
 
এএসএইচকে সাদেক জীবনের নির্বাচিত কিছু অংশ ——
১৫ বৈশাখ ১৩৪১ বঙ্গাব্দ( ৩০ এপ্রিল, ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দ) যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার বড়েঙ্গা গ্রামে সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম ইয়াহিয়া সাদেক, মাতা আসপারুন্নিসা সাদেক। ২৩ ভাদ্র ১৪১৪ বঙ্গাব্দ ( ৯ সেপ্টেম্বর,২০০৭ খ্রিস্টাব্দ) কেশবপুরের নিজ বাসভবনে মৃত্যু বরণ করেন।
শিক্ষা জীবন: কলকাতার হেয়ার স্কুল থেকে মাধ্যমিক, ST. Xavier’s College থেকে উচ্চ মাধ্যমিক ও অর্থনীতিতে স্নাতক (সম্মান) পাশ করেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে এম এ পাশ করেন। তিনি ইংল্যান্ডের কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি, আমেরিকার ম্যাসাচুসেস্টের উইলিয়াম কলেজে অর্থনীতি ও শাসনতন্ত্র বিষয়ে ডিগ্রী নেন।
কর্মজীবন: ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দে সিভিল সার্ভিস অব পাকিস্তান ক্যাডারে যোগদানের পর Assistant Magistrate, SDEO, Deputy Secretary পদে দায়িত্ব পালন করেন। কুমিল্লার জেলা প্রশাসক, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ, গণপূর্ত, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং মহামান্য রাষ্ট্রপ্রতির মুখ্য সচিব পদে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। তিনি এশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের শিল্প উন্নয়ন সম্পর্কিত উপদেষ্টা হিসাবে ১৯৮৫ সালে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে কর্মকালীন অবস্থায় ১৯৮৮ সালের ২৫ মার্চ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের চাকুরী হতে ইস্তফা দেন।
মুক্তিযুদ্ধে অবদান: ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি ছিলেন সরকারের যুগ্ম-সচিব। এলিফ্যান্ট রোডের ১ নং ট্যানামেন্ট হাউস ছিল বাসভবন। গেরিলা মুক্তিযোদ্ধাদের এটি ছিল অন্যতম ঘাঁটি। এ বাড়িতে গেরিলারা অপারেশনের পরিকল্পনা করতেন। এখানে রাখা হতো গেরিলাদের গোলাবারুদ,অস্ত্রশস্ত্র।
রাজনৈতিক জীবন: ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যোগদানের পর দলের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য মনোনীত হন। ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে যশোর-৬ আসন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। খেতাব প্রাপ্তি: তিনি ১৯৯৮ সালে ইউনেস্কোর অধীনে সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্যের ( World Heritage) তালিকায় অন্তর্ভূক্তি এবং মহান শহীদ দিবস ২১ ফেব্রুয়ারিকে আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি আদায়ে কার্যকর ভূমিকার জন্য ২০১০ সালে মরণোত্তর একুশে পদক পান। শিক্ষা ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদানের নির্বাচিত কিছু অংশ: *জাতীয় শিক্ষানীতি, ১৯৯৬ প্রণয়ন *সাত হাজারের বেশী বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভূক্তি *বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কারিগরি শিক্ষা চালু *পরীক্ষার ফলাফল মূল্যায়নে জিপিও পদ্ধতি চালু *দুনীতি বন্ধে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের স্ব-স্ব ব্যাংক একাউন্টে বেতন-ভাতা প্রদান। *মাধ্যমিক শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ() * পরীক্ষায় নকল বন্ধে কার্যকর কৌশল ও পরিকল্পনা গ্রহন *বেসরকারি শিক্ষক- কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ৯০ শতাংশে বৃদ্ধি *১৯৯৭ সালে বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের জাতীয় বেতন স্কেলের আওতায় আনা

 

@oasisinformatics