POEM

বঙ্গভাষা

হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন;- তা সবে, (অবোধ আমি!) অবহেলা করি, পর-ধন লোভে মত্ত, করিনু ভ্রমণ পরদেশে, ভিক্ষাবৃত্তি কুক্ষণে আচারি। কাটাইনু বহু দিন সুখ পরিহরি! অনিদ্রায়, নিরাহারে সঁপি কায়, মনঃ, মজিনু বিফল তপে অবরেণ্যে বরি;- কেলিনু শৈবালে; ভুলি কমল-কানন! স্বপ্নে তব কুললহ্মী কয়ে দিলা পরে- “ওরে বাছা মাতৃ-কোষে রতনের রাজি, এ ভিখারী-দশা তবে কেন তোর আজি? যা ফিরি, অজ্ঞান ...

Read More »

বঙ্গভূমির প্রতি

বঙ্গভূমির প্রতি রেখো, মা, দাসেরে মনে এ মিনতি করি পদে। সাধিতে মনের সাদ, ঘটে যদি পরমাদ, মধুহীন করো না গো    তব মনঃকোকনদে। প্রবাসে, দৈবের বশে, জীব-তারা যদি খসে এ দেহ-আকাশ হতে,-    নাহি খেদ তাহে। জন্মিলে মরিতে হবে, অমর কে কোথা কবে, চিরস্থির কবে নীর,    হায় রে, জীবন-নদে? কিন্তু যদি রাখ মনে, নাহি, মা, ডরি শমনে; মক্ষিকাও গলে না গো,    ...

Read More »

মিত্রাক্ষর

বড়ই নিষ্ঠুর আমি ভাবি তারে মনে, লো ভাষা, পীড়িতে তোমা গড়িল যে আগে মিত্রাক্ষররূপ বেড়ি ! কত ব্যথা লাগে পর’ যবে এ নিগড় কোমল চরণে- স্মরিলে হৃদয় মোর জ্বলি উঠে রাগে ছিল না কি ভাবধন, কহ, লো ললনে, মনের ভাণ্ডারে তার, যে মিথ্যা সোহাগে ভুলাতে তোমারে দিল এ তুচ্ছ ভূষণে ? কি কাজ রঞ্জনে রাঙি কমলের দলে ? নিজরূপে শশিকলা ...

Read More »

বঙ্গভাষা

হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন;- তা সবে, (অবোধ আমি!) অবহেলা করি, পর-ধন-লোভে মত্ত, করিনু ভ্রমণ পরদেশে, ভিক্ষাবৃত্তি কুক্ষণে আচরি। কাটাইনু বহু দিন সুখ পরিহরি। অনিদ্রায়, নিরাহারে সঁপি কায়, মনঃ, মজিনু বিফল তপে অবরেণ্যে বরি;- কেলিনু শৈবালে; ভুলি কমল-কানন! স্বপ্নে তব কুললক্ষ্মী কয়ে দিলা পরে- “ওরে বাছা, মাতৃকোষে রতনের রাজি, এ ভিখারী-দশা তবে কেন তোর আজি? যা ফিরি, অজ্ঞান তুই, ...

Read More »

তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য (চতুর্থ সর্গের শেষার্ধ)

মহানন্দে সুন্দ উপসুন্দাসুর বলী অমরারি, তুষি যত দৈত্যকুলেশ্বরে মধুর সম্ভাষে, এবে, সিংহাসন ত্যজি, উঠিলা,–কুসুমবনে ভ্রমণ প্রয়াসে, একপ্রাণ দুই ভাই–বাগর্থ যেমতি! ‘হে দানব’ আরম্ভিলা নিকুম্ভ-কুমার সুন্দ,–‘বীরদলশ্রেষ্ঠ, অমরমর্দ্দন, যার বাহু-পরাক্রমে লভিয়াছি আমি ত্রিদিব-বিভব ; শুন, হে সুরারি রথী- ব্যূহ, যার যাহা ইচ্ছা, সেই তাহা কর | চিরবাদী রিপু এবে জিনিয়া বিবাদে ঘোরতর পরিশ্রমে, আরাম সাধনে মন রত কর সবে |’ উল্লাসে দনুজ, ...

Read More »

কমলে কামিনী

কমলে কামিনী আমি হেরিনু স্বপনে কালিদহে। বসি বামা শতদল‐দলে (নিশীথে চন্দ্রিমা যথা সরসীর জলে মনোহরা।) বাম করে সাপটি হেলনে গজেশে, গ্রাসিছে তারে উগরি সঘনে গুঞ্জরিছে অলিপুঞ্জ অন্ধ পরিমলে, বহিছে দহের বারি মৃদু কলকলে!— কার না ভোলে রে মনঃ, এহেন ছলনে! কবিতা‐পঙ্কজ‐রবি, শ্রীকবিকঙ্কণ, ধন্য তুমি বঙ্গভূমে! যশঃ‐সুধাদানে অমর করিলা তোমা অমরকারিণী বাগ্‌‍দেবী! ভোগিলা দুখ জীবনে, ব্রাহ্মণ, এবে কে না পূজে তোমা, ...

Read More »

কবি-মাতৃভাষা

নিজাগারে ছিল মোর অমূল্য রতন অগণ্য ; তা সবে আমি অবহেলা করি, অর্থলোভে দেশে দেশে করিনু ভ্রমণ, বন্দরে বন্দরে যথা বাণিজ্যের তরী | কাটাইনু কতকাল সুখ পরিহরি, এই ব্রতে, যথা তপোবনে তপোধন, অশন, শয়ন ত্যাজে, ইষ্টদেবে স্মরি, তাঁহার সেবায় সদা সঁপি কায় মন | বঙ্গকুল-লক্ষ্মী মোরে নিশার স্বপনে কহিলা– ‘হে বত্স, দেখি তোমার ভকতি, সুপ্রসন্ন তব প্রতি দেবী সরস্বতী! নিজ ...

Read More »

কবি

কে কবি– কবে কে মোরে? ঘটকালি করি, শবদে শবদে বিয়া দেয় যেই জন, সেই কি সে যম-দমী? তার শিরোপরি শোভে কি অক্ষয় শোভা যশের রতন? সেই কবি মোর মতে, কল্পনা সুন্দরী যার মনঃ-কমলেতে পাতেন আসন, অস্তগামি-ভানু-প্রভা-সদৃশ বিতরি ভাবের সংসারে তার সুবর্ণ-কিরণ। আনন্দ, আক্ষেপ ক্রোধ, যার আজ্ঞা মানে অরণ্যে কুসুম ফোটে যার ইচ্ছা-বলে; নন্দন-কানন হতে যে সুজন আনে পারিজাত কুসুমের রম্য ...

Read More »

কপোতাক্ষ নদ

সতত, হে মদ, তুমি পড় মোর মনে | সতত তোমার কথা ভাবি এ বিরলে ; সতত ( যেমতি লোক নিশার স্বপনে শোনে মায়া-যন্ত্রধ্বনি ) তব কলকলে জুড়াই এ কান আমি ভ্রান্তির ছলনে!– বহু দেশে দেখিয়াছি বহু নদ-দলে, কিন্তু এ স্নেহের তৃষ্ণা মিটে কার জলে? দুগ্ধ-স্রোতোরূপী তুমি জন্ম-ভূমি-স্তনে! আর কি হে হবে দেখা?–যত দিন যাবে, প্রজারূপে রাজরূপ সাগরেরে দিতে বারি-রূপ কর ...

Read More »
@oasisinformatics